ছাঁদ কৃষির মাটি বানানোর পদ্ধতি
সমস্ত প্রশংসাই মহান আল্লাহর।
ছাঁদ কৃষির মাটি বানানোর পদ্ধতি সহ গাছ রুপন পরিবেশ রক্ষা ও ছাঁদ কৃষির পোকা মাকড় থেকে রক্ষার পদ্ধতি ও কোন সার কি কাজ করে এই নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছি একটু কষ্ট করে পোস্টটি পড়বেন কিন্তু । আমি এই পোস্ট গুলো আপনাদেরকে উৎসাহিত করতে দিয়ে থাকি । আপনারা উৎসাহি হয়েছেন বা উৎসাহিত করতে পেরেছি এখানেই আমার স্বার্থকতা । আমার নিজের বাগানের অভিজ্ঞতার আলোকে অনেক চেষ্টা করে এই লেখা লিখেছি ) ( তাই ভুল ত্রুটি থাকা খুব স্বাভাবিক ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি দেখার অনুরোধ রইলো ")
১ম । কি গাছ লাগাবেন তার উপর নির্ভর করবে কোথায় কিভাবে সেই গাছ লাগাবেন। মনে রাখতে হবে যে গাছ লাগাবেন সেই গাছের আকার যত বড় হবে গাছ লাগানোর পাত্র/ড্রাম/টবের আকার ও তত বড় হতে হবে। দেখে নেই পদ্ধতই গুলোঃ আমাদের নতুন বাগানি বন্ধুরা একটু বেশি খেয়াল করে পড়বেন । মাটি বানানোর এই পদ্ধতিতে মাটি টি বানিয়ে নিতে হবে এর পরেই আপনার শখের ছাঁদ কৃষিতে গাছ নিজের পছন্দ মতো রোপন করে নিবেন।
টব পদ্ধতি : খুব সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যায় বলে এটাই সহজ পদ্ধতি বলে বিবেচিত। তবে ফলের গাছের জন্যে ছোট টব দিলে ফলন খুব একটা ভালো হবে না। বড় আকারের হাফড্রামে ফলের গাছ লাগানো যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে সিমেন্টের তৈরি বড় টব ব্যবহার করা যায়। টবে চাষ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জৈব সার ব্যবহার করা উচিত। ছাদ বাগানের মাটি মাশানোটাই বড় কাজ এই কাজ টুকু খুব যত্ন সহ কারে করতে হবে । ৩ বস্তা দোঁআশ মাটিতে এক বস্তা পচা গোবর এক বস্তা জৈব সার। সাথে পটাশ ৫০ গ্রাম ডিএপি ১০০ গ্রাম বোরন সার ১০ গ্রাম জিপসাম ১০০ গ্রাম দিবেন ’ দস্তা সার ৩০ দিবেন ও ফুরাডান ২৫ গ্রাম অথবা দুই কাপ বাজানো চুন নিবেন । পটাশ সার দিলে ছাদের বাগানে কেচো হবে না । যদি মাটিতে লবন দেখা দেয় কি করবেন তখন মনে রাখবেন জিপসাম লবন নাশকের কাজ করে শত ভাগ । ত
এর পর মাটি ভাল ভাবে মিশাইয়া হাল্কা পানি দিয়া ১০/১২ দিনের মতো পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখবেন । ঠিক ১২ দিন পর মাটি এক দিন রোদে দিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে । এতে মাটিতে গ্যাস হবে না । যদি মাটি বেশি শুকিয়ে যায় তাহলে হাল্কা পানি দিয়ে মাটিতে আদ্রতা ফিরাইয়ে নিয়ে আসবেন । এই আদ্রতা অংকুরিত হওয়া জন্য দরকারী । বিজ রুপনের পর চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দিন .৫ বা ৬ দিন পরে দেখে নিবেন । যদি সু্যোগ থাকে মাটি এই ভাবে বানিয়ে রেখে দিতে পারেন ।****************************************************************************************************************************************************************************
আমাদের বাসা বাড়ি জৈব সারের কারখানা একটু খেয়াল করলে জৈব সার দিয়ে জৈব মাটি বানানো সম্ভব । প্রথমে লাগবে একটি হাফ ড্রাম সাথে দোঁআশ মাটি । এখন এই পদ্ধতি অনুসরন করুন । ড্রামের নিছে ছিদ্র করে টপ ভাঙ্গা চারা দিয়ে ঢেকে দিবেন। এখন ৩ ইঞ্চি পরিমানে দোঁআশ মাটি দিয়ে আপনার বাসার সব্জি কাটার খুসা ড্রামে ফেলুন ৪ ইঞ্চি পরিমান আবার মাটি দিন ৩ ইঞ্চি । এবার ভাতের মাড় দিতে থাকুন ও সব্জি কাটা খোসা দিতে থাকুন ৩ ইঞ্চি পরিমান হলে ৫০ গ্রাম পটাশ সার দিবেন দিলে পোকা হবে না । আবার ভাতের মাড় সব্জির খোসা একি ভাবে দিতে থাকুন ড্রামে ভরে গেলে ৫০ গ্রাম পটাশ সার দিয়ে মাটি দিয়ে দিন । মাটির উপরে একটি ছালা বা চট দিয়ে ঢেকে দিন । ১ মাস প্রতি দিন অল্প অল্প মানি দিতে থাকুন । এক মাস পরে আপনি খুব উন্নত মানের এক ড্রাম জৈব মাটি পেয়ে যাবেন । এখানে পিয়াজ রসুন ও পেপের খোসা দিবেন না এই গুলো সহজে পচে না এইটা মনে রাখবেন ।আপনি নির্ভাবনায় এই মাটি যেই কোন গাছ শাক সব্জি ফুল ফল রুপন করতে পারবেন । মাটি তৈয়েরিতে ধৈর্য্য ধরে করবেন তাহলে বাগানের যা লাগাবেন তারা ও খুশি, আপনার মুখে ফোটবে হাসি ।
*************************************************************************************************************************************************************************
প্রাকৃতিক ভাবে আমাদের রান্না ঘড় একটি জৈব সারের কারখানা । আসুন জেনে নেই কি ভাবে তৈয়েরির করবো সব্জির কাটাকুটি দিয়ে তরল জৈব সার । এই খানে পদ্ধতি দেওয়া হলো ***** আপনার বাগান বড় ও ছোট হতে পারে । সেই অনুপাতে ফুল ড্রাম ডাকনা সহ কিনে নিবেন । বাগান বড় হলে ১২০ লিটারের ছোট হলে ৬০ লিটারের খালি ড্রামটি ছিদ্র মুক্ত কিনে নিবেন । এখন আপনার বাসা সব্জি কাটার খোসা ড্রামে ফেলতে থাকুন । একটু মনে রাখবেন পিয়াজ রসুনের ও পেপের খোসা দিবেন না কারন এই গুলি সহজে পচে না । সব্জির কাটাকুটি সহ বাগানের বিভিন্ন শাক জাতীয় গাছের পাতা ও দিতে পারবেন । ড্রামটি ভরে গেলে পানি দিতে হবে সাথে ৫০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫০ গ্রাম পটাশ সার দিতে হবে । ইউরিয়ায় পচানো সাহায্য করবে পটাশ সার পোকা মুক্ত রাখার কাজ করবে । ড্রামের মুখ বন্ধ করে দিন ১৫ দিন পরে মুখ খুলে । নাড়ুন ভাল ভাবে এখান থেকে শুধু পানি নিবেন । এখানে পানি কমে গেলে অল্প পানি দিয়ে নিবেন ।এক মগ পচা পানির সাথে ৫ মগ ভালো পানি মিশাবেন তার পরে গাছের গোড়া থেকে দুর দিয়ে দিতে হবে । এই পানিতে খড় কুটা যা হবে শুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলুন’ ছাই হবে এই ছাই বেগুন গাছের জন্য ভাল জৈব সার । আপনার কস্টের বাগান সৃস্টি আনন্দে ভরে উঠুক এই শুভ কামনা থাকলো বাগানি বন্ধুদের জন্য ।
হাফড্রাম পদ্ধতি : বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষই হাফড্রাম পদ্ধতিতে ছাদে ফলের বাগান করে থাকেন। হাফড্রামের তলদেশে ছিদ্র করতে হবে। ছিদ্রগুলোয় ইটের টুকরো বসাতে হবে; তার উপরে ড্রামের তলদেশে প্রথম ১ ইঞ্চি পরিমাণ খোয়া বা সুড়কি দিতে হবে এবং তার উপরে নারিকেল খোসা ৩ ইঞ্চি পরিমাণ দিতে হবে। এর ফলে গাছের খাদ্যের উপকরণ থেকে যাবে । শুধু মাত্র অতিরিক্ত পানি বেড় হয়ে যেতে পারবে। জৈব সারের পাশাপাশি প্রতিটি ড্রামে ২০ গ্রাম ডেপ, ১৫ গ্রাম পটাশ ও ৫ গ্রাম ফুরাডান ২ বোরন ও ২০ দানা দস্তা সার ব্যবহার করা যেতে পারে।এই পদ্ধতি শুধু বড় ফল গাছের জন্য । গাছ যখন বেঁচে যাবে তাকে খাবার দিতে হবে ।
’’সুপার ফাস্ট তরল সার’’ খৈল ও গোবর পচানো পানি ?
খৈল পচা একটি ভাল মানের জৈব সার । কি ভাবে তৈরি করবেন এই সার । যে কোন ঢাকনা যুক্ত পাত্র নিন ১কেজি খৈল ও সাথে শুকনা গোবর ২ কেজি মগের এক মগ দিতে হবে। ১০ লিটার পানি দিয়ে মুখ বন্ধ করে ঢেকে রাখুন ১০ দিন পরে ঢাকনা খুলে লাঠি দিয়ে ঘুটে দিবেন । এয়ার টাইট ড্রাম হলে গন্ধ অনেক কম হবে । পানি কমে গেলে আরো ৫ কেজি পানি দিন । আবার বন্ধ করে ৫ দিন রাখুন ঠিক ১৫ দিন পড়ে ব্যাবহারের উপযোগি হয়ে যাবে । সেই সাথে লক্ষ রাখবেন পোকা হলে এক মোট পটাশ সার দিয়ে দিবেন পোকা মরে যাবে । এখান থেকে যে মগ দিয়ে পানি নিবেন’ সেই মগের ১০ মগ ভাল পানি দিয়ে নিবেন । খুব পাতলা করে গাছের চার দিকে’ গোড়া থেকে দুর দিয়ে চক্র আকারে দিতে হবে । এই জৈব সার টি মাসে ২ বার দিতে পারেন । মনে রাখবেন ১কেজি খৈল পাচানো পানি জন্য পানির পরিমান সর্ব মোট ১২০ লিটার’ তাই পানি দিয়ে খুব পাতলা করে দিতে হয় । না হলে গাছ মরে যাবে’ একটু বুজতে ভুল হলেই গাছ মরে সেষ । খৈল পচানো পানি দেওয়ার আধা ঘন্টা পড়ে ভাল পানি সব গাছে দিতে হবে যেন ভুল না হয় ।
অন্য সার গাছের রং গাঢ় সবুজ থাকলে দিতে হবে না । কিছু কিছু সময় পরিমিত রাসায়নিক সার দিতে হবে । পাতা সাইট লাল হলে পটাশ সার ১৮ লিটার পানিতে দুই মোট ভিজিয়ে চক্র আকারে দিতে হবে । ডেপ সার ব্যাবহার করলে অন্য সার তেমন লাগে না । ফুল কলি ঝরে গেলে বোরন প্রতি গাছের চার দিকে এক চিমটি পরিমান দিতে হবে মাসে ২ বার সাথে ১৫/২০ দানা দস্তা সার দিবেন । মনে রাখবেন শাক-সবজি, ফুলের জন্য ছোট খাট টব বা পানির বোতল হলে ও চলে । কিছু কিছু গাছ যেমন মরিচ গাছ সহ লতা জাতীয় ফুল সব কিছু ৫ লিটার পানির বোতলে লাগাতে পারেন । কিন্তু ফলের ক্ষেত্রে পাত্র/ড্রাম যত বড় হয় তত ভালো । এর বাহিরে জানতে চাইলে বিভিন্ন গ্রুপের গুনি জনেরা অনেক তথ্য
দিয়ে সহায়তা করবে ধন্যবাদ।
স্থায়ী বেড পদ্ধতি : স্থায়ী বেড পদ্ধতি একটি আধুনিক পদ্ধতি। ছাদে বাগান করার পূর্বে ছাদ বিশেষভাবে ঢালাই দিয়ে নেট ফিনিশং করে নিতে হবে। স্থায়ী বেড পদ্ধতির বাগান করার জন্য ছাদের চারিদিকে ২ ফুট প্রস্থের দুই পাশে ১.৫ ফুট উঁচু দেয়াল ৩ ইঞ্চি গাঁথুনির নেট ফিনিশিং ঢালাই দিয়ে তৈরি করলে মাঝখানে যে খালি জায়গা তৈরি হয়, সেই খালি জায়গার তলায় প্রথমে এক ইঞ্চি ইটের সুড়কি বা খোয়া, পরের তিন ইঞ্চি গায়ের খোসা দেয়ার পর বাকি অংশ ২ ভাগ মাটি ও ১ ভাগ গোবরের মিশ্রণ দিয়ে ভরাট করে স্থায়ী বেড তৈরি করা হয়। অতিরিক্ত পানি, সার পাবার সুষ্ঠু পথ রাখতে হবে।
এছাড়া স্থায়ী বেড হিসেবে ট্যাংক পদ্ধতিতেও গাছ লাগানো যায়। সেই জন্যে ছাদে এক ফুট উঁচু ৪টি পিলারের উপর পানির ট্যাংক আকৃতির ৩ ফুট দৈর্ঘ্য, ২ ফুট প্রস্থ ও ১.৫ ফুট উঁচু ৩ ইঞ্চি গাঁথুনির নেট ফিনিশিং ঢালাই দিয়ে যে ট্যাংক তৈরি করা হয় একেই বলে ট্যাংক বেড পদ্ধতি।
ছাদে কি কি গাছ লাগাবেন
ছাদে বাগান করার সময় জরুরী বিষয় হলো লক্ষ রাখতে হবে যেন গাছটি বড় আকারের না হয়। ছোট আকারের গাছে যেন বেশি ফল ধরে সে জন্য হাইব্রিড জাতের গাছ বা কলমের গাছ লাগানো যেতে পারে। বেঁটে প্রজাতির অতিদ্রুত বর্ধনশীল ও ফল প্রদানকারী গাছই ছাদ বাগানের জন্য উত্তম। বীজের চারা নয়, কলমের চারা লাগালে অতিদ্রুত ফল পাওয়া যায়। আমের বিভিন্ন হাইব্রিড বা কলমের জাত যেমন আম্রপালি ও মল্লিকা জাতের আম, আপেল কুল, পেয়ারা, লেবু, পেঁপে, জলপাই, আমড়া, করমচা, শরিফা, আতা, ডালিম, এমনকি কলা গাছও লাগানো যাবে। জানাশুনা আছে এমন বিশ্বস্ত নার্সারির কাছ থেকে গাছ সংগ্রহ করতে হবে। আজকাল বিভিন্ন ফলের গুটি কলম, চোখ কলম ও জোড় কলম পাওয়া যাচ্ছে। কলমের জলপাই, থাইল্যান্ডের মিষ্টি জলপাই, কলমের শরিফা, কলমের কদবেল, ডালিম, স্ট্রবেরি, বাউকুল, আপেলকুল, নারিকেলকুল, লিচু, থাইল্যান্ডের লাল জামরুল, গ্রিন ড্রপ জামরুল, আপেল জামরুল, আঙ্গুর পেয়ারা, থাই পেয়ারা, ফলসা, খুদে জাম, আঁশফল, জোড় কলমের কামরাঙা । সঠিক মানের চারা হলে ছয় মাস ও এক বছরের মধ্যেই ফল আসবে। আজকাল বিদেশ থেকে উন্নত মানের কিছু চারা কলম দেশে আসছে। ছাদ বাগানের সাধ পূরণ করার জন্য এই সব সংগ্রহ করে লাগাতে পারেন।তবে ছাদ বাগানে সব চাইতে ভাল ফলন হয় পিয়ারা থাই মিস্টি জাতের পিয়ারা প্রায় বার মাসই হয় । পিয়ারা লাগাতে ভুলবেন না । আরো একটি বিষয় আমরা একে অন্য সাথে গাছ চারা বিজ ও কাটিং বিনিময় করবো । এতে আমাদের বাগানে বিভিন্ন জাত দিয়ে বাগান সাজানো হয়ে যাবে খুব সহজে । বন্ধুরা এ্তে করে এক বাগানি অন্য বাগানি বন্ধুর সাথে বন্ধুত গড়ে উঠতে সময় লাগবে না। খুব সহজ ভাবে এই কাজটি হয়ে যাবে যা সকলের জন্য সহায়ক হবে ।
******
গাছ লাগানোর নিয়ম
খুব সাবধানতার সাথে টব/পটে/ড্রামে/স্থায়ীবেডে চারা/কলম লাগাতে হবে। ঠিক মাঝখানে পরিমাণ মতো মাটির নিচে রোপন করতে হবে। চারা বা কলমের সাথে লাগানো মাটির বল যেন না ভাঙ্গে সেদিকে নজর রাখতে হবে। চারা বা কলমের ক্ষেত্রে যতটুকু নিচে বা মাটির সমানে ছিল ততটুকু সমানে ছাদে লাগাতে হবে। বিকালে দিকে গাছ লাগাবেন কখনো সকালে নয় মনে রাখবেন । সকালে গাছ লাগালে মূচ্ছা যাবে তাকে বাচিয়ে রাখা কঠিন হবে।***********
ছাদে ফলের বাগানের যত্ন
যেহেতু সীমিত আকারে সীমিত জায়গায় উৎপাদন করা হয় সেজন্য অতিরিক্ত যত্ন সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং বিভিন্ন পরিচর্যায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। কেন না সার কমবেশি হলে, গাছের সাথে লেগে গেলে গাছ মরে যাবে, পরিমাণ মতো না হলে অপুষ্টিতে ভুগবে । যেমন অনেকে বলে আমার গাছে ফল মরে যাচ্ছে উপরে
মাটিতে যে ভাবে সার ও গোবর দিয়ে মিলাতে লিখা হইয়াছে তা অনুসর করুন । একটি সুন্দর গর্বিত বাগানের মালিক হোন বাগানের জন্য সময় বেড় করে নিবেন । আমরা ভালো মানের ফল ফুল সব্জি পেতে চাই ।
সেচ নিস্কাশন সেচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা মাটির আর্দ্রতার জন্য সহজেই গাছ পালা নেতিয়ে যাবে তেমনি অতি পানি বা পানির আর্দ্রতার জন্যও গাছ নেতিয়ে পড়ে মরে যেতে পারে। তাই অবশ্যই ছাদের বাগানে প্রতিনিয়ত সেচের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে । পানি খুব হিসাব করে দিতে হবে যাতে গাছে পানি বেশী ও না হয় কম না পরে যাকে বলে পরিমিত।
বছরে অন্তত একবার পুরাতন মাটি বদলিয়ে নতুন মাটি জৈব সারসহ বিভিন্ন সার সাথে দিতে হবে। ইদানিং বাজারে মাটি কিনতে পাওয়া যায় ও বিভিন্ন নার্সারিতে মানসম্মত মাটি কিনতে পারেন টবে হাফড্রামে মাটি ভরতে হবে তার পর । আপনার পছন্দ মতো গাছ কিনে রুপন করুন । বড়ই গাছ বিজ থেকে হতে পারে সাথে মিস্টি জাতের ডালিম ও । আমার ছাদ বাগানের ইক্ষু অনেকের দৃষ্টি কেরেছে । ইক্ষু চাষ করতে পারেন আপনার শখের বাগানে ইক্ষু চাষের পদ্ধতি আমার নিজের পোস্টে ছবি সহ দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন ।
ছাদের বাগানে প্রতিদিন পরিষ্কার কার্যক্রম অনুসরণ করতে হবে। সেজন্য পুরাতন রোগাক্রান্ত, বয়স্ক ডালপালা, পাতা সাবধানতার সাথে কেটে নির্দিষ্ট স্থানে জমা করতে হবে। এতে গাছপালা রোগমুক্ত থাকবে ফলনে সুবিধা হবে।রোগাক্রান্ত, পাতা পুরিয়ে ফেলবেন ।
আমাদের দেশের আবহাওয়ায় যে কোন ফলে পোকা বা রোগের আক্রমণ অহরহ ঘটে থাকে। সেক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যদি হঠাৎ বেশি মারাত্মক আক্রান্ত হয়ে যায় তখন উপযুক্ত বালাইনাশক সঠিক সময়ে ব্যবহার করতে হবে । নয়তো বাগানের অন্য গাছ আক্রান্ত হবে । কিটনাশক নিয়ে ৩য় ধাপে বিস্তারিত আলোচনা করেছি ।
ছাদে যাদের যায়গা আছে তারা মাটি সব সময় শুকিয়ে রাখতে পারেন উপরের নিয়ম মেনে মাটি বানিয়ে রেখে দিন । তাতে আপনার পছন্দের গাছ কিনেই রুপন করতে পারবেন ( তথ্য সুত্র আলমগীর শিকদার ) ।****************************************************************************************************************************************************************************************২য় । সম্মানিত বাগানি বন্ধুরা পরিবেশ নিয়ে একটু না বললে কি হয় । একটি ছাদ একটি বাগান এই স্লোগান হোক আমাদের সকলের " সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে দিন দিন শহরাঞ্চলের উপর যেমনি করে মানুষের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি পরিবেশের উপর ঝুঁকিও বাড়ছে দিনের পড় দিন। শহরাঞ্চলের শিল্পকারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোয়া বায়ুমন্ডলকে মাত্রাতিরিক্ত ভাবে দূষণ করছে। ইতোমধ্যে এক জরিপে প্রমাণিত হয়েছে কোন কোন শহরে ও ঢাকা শহরের বায়ু দূষণের মাত্রা সহনশীল পর্যায় থেকে অনেক গুন বেশি। টিন-কাঠের বাড়ির বদলে দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে দালান ইস্পাতের কাঠামো ও কাঁচে মোড়ানো বহুতল ভবন। র্সূয থেকে তাপ ও আলো এ ধাতব ও কাঁচের কাঠামোর একটি থেকে অপরটিতে প্রতিফলিত হয়। বারংবার প্রতিফলনের দরুণ নির্দিষ্ট এলাকার তাপমাত্রা আশপাশের এলাকার তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে এবং শহরজুড়ে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য হিট আইল্যান্ড বা তাপ দ্বীপ। এসব ক্ষতি মোকাবেলায় ছাদ বাগান কার্যক্রম একটু স্বস্তির পরশ হতে পারে ও ভুমিকা রাখতে পারে শহরের পরিবেশ রক্ষায় । তাই আমাদের সবায় কে এগিয়ে আসতে হবে আমাদের মনের ভাবনা বদলাতে হবে সব কিছু সরকার করতে পারে না ।আমরা এই শহরেই বাস করি চাইলে ও ফিরে যেতে পারছি না । ছেলে মেয়ের লেখা পড়া থেকে নিজের চাকরি বা ব্যাবসা কি করে ফি্রে যাব মাটির টানে ও গাছপালার কাছে । তাইতো আমরাই পারি এই শহরের গাছ লাগিয়ে নিজের ছাদে বাগান করে যাদের ছাদ নেই বারান্দায় কিছু গাছ লাগাতে । আমার নিজের উপকারের সাথে সাথে পরিবেশ রক্ষার কাজটি হয়ে যাবে । আমরা নিজেরা বদলালে বদলিয়ে যাবে এই শহর আসুন আমরা এখনি শুরু করি।বাগান বিষয়ক অনেক গুলো গ্রুপ হইয়াছে যারা প্রতি নিয়ত নতুন নতুন বিষয় তুলে ধরতেছে । সবুজের পারস্পরিক শেয়ারিংয়ে এর মাধ্যমে সবুজায়নের একটি নেটওয়ার্ক তৈরী হয়েছে যা এখন আপনার হাতের নাগালে যে কোন গ্রুপ গুলোতে ক্লিক করলেই অনেক কিছুই জানতে পারেন ।। ছাদ বাগান সৃস্টিকারীদের' ছাদ বাগান বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান সহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে। ছাদ বাগান বিষয়ক যে কোন ধরনের পরামর্শ প্রয়োজন হলে আপনি যে কোন গ্রুপে লিখে আপনার সমস্যা সমাধান করতে পারেন । গাছ কি ভাবে রুপন করতে হয় এই বিষয় গুলো অনেকের জানা আছে অনেকের নেই যার নেই যেনে নিতে পারবেন । ছাদ বাগানের মাটি বানানোর বিষয় আমি একাধিক বার বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট দিয়েছি । আজ এক সাথে দুইটি পোস্ট এক করে দিলাম । আমরা পোকার আক্রমন থেকে রক্ষার পদ্ধতি ও জেনে নিতে পারি । ৩য় পোস্ট ও এক করে দিলাম । আমার ভাবনা আমর বাগান সুন্দর হোক আপনার বাগান । যারা নতুন বাগান শুরু করবেন । এই সময় দেশী শাক সব্জি ফল ফুল দিয়ে শুরু করবো । এতে অর্থ নস্ট হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম তাই নতুন বাগানিরা কখনো উৎসাহ হারাবে না । আল্লার নামে শুরু করুন বরকত দিবেন আল্লাহ । হাত পাকা হলে বিদেশী ফল ও ফুলের দিকে ঝুকবেন তার আগে নয়। আপনার শখের বাগান সুন্দর হোক শুভ কামনা আপনার বাগানের জন্য ( তথ্য আলমগীর শিকদার )***************************************************************************************************************************************************************************************৩য় ধাপ কিটনাশক
সম্মানিত ছাদ বাগানি বন্ধুরা বাগানের পোকা নিয়ে অনেক কথা বলা যায় ।
আমি শুধু বলবো আলু যেমন সব তরকারিতে চলে এই তিনটি ঔষধ এমনি । ( রিপকর্ড ও সেভিন পাউডার ফ্লোরা ও ভারটিমেক ) আমরা পোকার জন্য নানা রকমের ঔষধ ব্যাবহার করে থাকি ।এই তিন টি ব্যাবহার করে দেখতে পারেন ফলা ফল কি । অনেক রকমের ঔষধ কেনা থেকে বেচে যাবেন এই টুকু বলতে পারি । বিধি মোতাবেক এই ঔষধ স্পে সময় মুখে মাস্ক ব্যাবহার করবেন । স্পে সেষ ভাল ভাবে সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করে নিবেন । পানিতে পরিমান ঠিক রেখে ঔষধ দিবেন । দুই লিটার পানির সাথে রিপকর্ড ১০ ফোটা ও সেভিন পাউডার চা চামচের ২ ভাগের ১ ভাগ দিয়ে ভাল মতো ঝাকিয়ে স্পে করুন ।সময় সেষ বিকালে । এই মৌসমে পোকার আক্রমন বেড়ে যায় । আমরা প্রায় বাগানিরা মিলি ব্যাগ নিয়ে কম বেশী সমস্যায় পরি । রিপকর্ড ও সেভিন পাউডার এই দুইটি সব সময় ব্যাবহার করতে পারি পরিমান ২ লিটারের হিসাব মতো । এবং অন্য অন্য যে কোন পোকা জন্য ব্যাবহার করতে পারেন খুব ভাল কাজ করে । পোকার বংশ হবে ধংশ । সেই সাথে আপনার গাছের কোন ফল পোকায় আক্রমন করবে না বা ফলের ভিতরে পোকা হবে না ।সব চাইতে ভাল আম ও পিয়ারার ভিতরের পোকা হবে না । ফল ঝরে গেলে বা অকাল পেকে গেলে দিতে পারেন রিপরর্ড ৫ফোটা সাথে ফ্লোরা এক চা চামচ দিয়ে ভাল মতো ঝাকিয়ে স্পে করুন আক্রান্ত সব্জি সহ পুরা লতা গাছ ভিজিয়ে দিবেন । মনে রাখবেন ফ্লোরা যে কোন লতা জাতীয় গাছে ব্যাবহার করবেন । যখন বিষ স্পে করবেন ড্রামের নিচে ও টবের নিচে ও স্পে করবেন কারন পিপড়ার বাসা এর নিচে থাকে এই পিপড়ায় ফল গাছে ফলের কলি নস্ট করে । সেষ বিকালের বেলায় বিষ স্পে করবেন । আম ও পিয়ারয় ১৫ দিন অপেক্ষা করে ফল খাবেন । সব্জির বেলায় ১০ দিনের আগে খাবে না । আপনি তো আর বাজারে বিক্রি করতে যাবেন না তাই নিয়মটি ঠিক মতো পালন করবেন । পাতা কুকরানো জন্য ২ লিটার পানিতে এ সি আইয়ের টিড্রো+ অর্ধেক প্যাকেট ও সাথে ভারটিমেক ১ চা চামিচ দিয়ে পানিতে মিশাইয় স্পে করুন লেবু বেগুন ও মরিচে । আমার নিজের ছাদ বাগানে আমি মাসে একবার রিপকর্ড ও সেভিন পাউডার মিলিত ভাবে স্পে করে থাকি । আমি সব্জির জন্য ৬/৭ দিন ও ফলের জন্য ১০/১২ দিন অপেক্ষা করে সব্জি ও ফল খাওয়াত জন্য তুলি । এই ঔষধ গুলোর কারনে আমার বাগান পোকা মুক্ত থাকে । সাথে ১৮ লিটার রংয়ের পটে দুই মোট পটাশ ভিজিয়ে ১৫ দিন পর পর গাছে চার দিকে চক্র আকারে দিন এতে কাচো হবে না আপনার শখের বাগানে । ছাদের বাগানে কেচো কোন উপকারে আসে না কারন ছাদের মাটিতে কেচোর পযাপ্ত খাবার থাকে না তাই তারা খাবারের জন্য গাছের ক্ষতিই বেশী করে । ২য় আপনি চাইলে জৈব বালাইনাশক ও ব্যাবহার করতে পারেন । আপনি নিজে ও নিম পাতা সিদ্ধ করেন সেই পানি ঠান্ডা করে স্পে করে নিতে পারেন উপকার পাবেন । বাজারে জৈব বালাইনাশক কিনতে পাবেন ইচ্ছা করলে ব্যাবহার করতে পারেন । পোকা তারাতে বাগানে নিম গাছ করল্লা ও রসুন চাষ করতে পারেন সব সময় চার কোনায় রাখতে পারেন নিম গাছ মাঝামাঝিতে লাগাতে পারেন করল্লা রসুন ও বিভিন্ন কোনায় দিতে পারেন আপনার ইচ্ছা মতো । সব সময় বাগান পরিস্কার রাখার চেষ্ঠা করবেন এতে ও পোকা মাকড় কম হবে । এই লিখাটি আমার নিজের পোস্টে সব সময় খুজে পাবেন । পোস্টটি পুরা পুরি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ ( তথ্য সুত্র আলমগীর শিকদার )
*************************************************************************************************************************************************************************************** ৪থ ধাপ সার বেবস্থাপনা
বিষয় টি খুব লক্ষ করে পড়ে নিবেন ।। আজকে আপনাদের সামনে মজার একটি টিপস নিয়ে হাজির হলাম। আমরা কৃষি জমিতে ও ছাদ বাগান সহ বিভিন্ন বাগানে সবাই বিভিন্ন রকম সার ব্যবহার করি। কিন্তু কোন সার ফসলের জন্য কি কাজ করে তা আমরা অনেকেই জানি না, এমনকি জানার চেষ্টাও করি না দোকানে বা নার্সারি থেকে সার কিনে নিয়ে আসি । কি সার কিনতেছি তা ঠিক মতো চিনে আনতেছিনা । বাসায় এসে সমস্যয় পড়তে হয় কোনটা কি সার । তখন বিভিন্ন ভাবে জানার চেষ্ঠা করা হয় অনেক সময় ছবি দেখে সার চিনা যায় না । নতুন বন্ধুদের বলবো সার কিনার সময় মার্ক করে নিবেন প্যাকেটের গায়ে নাম লিখে নিবেন । কিন্তু ভাল ফসল উৎপাদনের জন্য এটা জানা খুবই জরুরী। নিচে কোন রাসায়নিক সারের কি কাজ তা সংক্ষেপে তুলে ধরলাম ।*************। আমরা প্রয়োজন ছাড়া রাসায়নিক সার ব্যবহার করবো না এমনি অঙ্গিকার থাকলো । আমাদের রান্না ঘড় প্রকৃতিক ভাবেই জৈব সারের কারখানা ১। রান্নার জন্য সব্জির কাটাকুটি পচিয়ে এর পানি গাছের গোড়ার চার দিকে দিতে পারেন । ২। মাছের কাটাকুটি অংশ যা রান্নার কাজে লাগে না গাছের গোড়া থেকে একটু দুর দিয়ে গর্ত করে ৬ ইঞ্চি মাটির নিচে দিয়ে মাটি দিয়ে ঢেকে দিবেন‘ ইউরিয়ার সারের কাজ হয়ে যাবে ৪৫ দিনের মধ্যে ইউরিয়া দেওয়া লাগবে না । সুপারফাস্ট সার হিসাবে কাজ করে খৈল পছানো পানি । এই নিয়ম গুলি আমার নিজের আইডিতে মাটি বানানো পোস্টে দেওয়া আছে ২৯/০৮/২০১৮ তারিকের পোস্টে খুজে পড়ে নিবেন ।
মানসম্পন্ন বা গুণগত সার কী?
গুণগত সার বলতে আমরা সেসব সারকে বুঝি যা সরকার কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশের শর্তাবলি পূরণ করে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরিয়া সারকে ধরা যাক এ সারে মোট নাইট্রোজেন পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ৪৬.০% এবং সর্বোচ্চ বাইউরেটের পরিমাণ ১.৫% ও মোট আর্দ্রতা ১.০% নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি কোন ইউরিয়া সারের নমুনায় নাইট্রোজেনের পরিমাণ ৪৬% এর কম হয়, বাইউরেটের পরিমাণ ১.৫% এর বেশি হয় এবং আর্দ্রতার পরিমাণ ১.০% এর বেশি থাকে, তাহলে বুঝতে হবে সারটি মানসম্মত নয়।
বাংলাদেশের কৃষিতে সাধারণত ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম, জিংক সালফেট এবং বরিক এসিড ব্যবহার করা হয়। এ সারগুলোর বৈশিষ্ট্য এবং ফসল উৎপাদনে তাদের প্রভাব নিম্নে বর্ণনা করা হল। পরিশেষে ভৌতিক উপায়ে এসব সারের মান নির্ধারণ করার সহজ উপায়গুলোও বর্ণনা করা হয়েছে।
ইউরিয়া সার
ইউরিয়া বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সংবলিত একটি রাসায়নিক সার। এটি প্রিল্ড, গ্রানুলার, পেলেট, পাউডার এবং ক্ষুদ্র স্ফটিক হিসেবে উৎপাদিত হয়। সহজে পানিতে গলে যায় বা দ্রবীভূত হয়। দেখতে সাদা ধবধবে বা অনেক ক্ষেত্রেই রঙবিহীন। এ সারের কোনো গন্ধ নেই। এটি অম্লীয় বা ক্ষারীয় নয়।
ব্যবহারের সুবিধার্থে ইউরিয়া প্রিল্ড (ক্ষুদ্র দানা<২মিমি.) এবং দানাদার(২-৫মিমি.) হিসেবে বাজারজাত করা হয়। আইএফডিসি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে গুটি ইউরিয়া বা ইউএসজি বাজারজাত করার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে আসছে। বর্তমানে ২২ জেলায় (ময়মনসিংহ, শেরপুর এবং দক্ষিণ অঞ্চলের ২০টি জেলার ১২২টি উপজেলায়) কৃষি উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ প্রকল্পের (আপি) মাধ্যমে ১.৮-২.৭ গ্রাম ওজনের গুটি ইউরিয়ার ৬০০০টি প্রদর্শনী স্থাপনের ব্যবস্থা নিয়েছে। আউশ ও আমন ধানে প্রতি চার গোছার কেন্দ্রে ১.৮ গ্রাম ওজনের ১টি এবং বোরো ধানে ২.৭ গ্রাম ওজনের ১টি গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
ইউরিয়া পুষ্টি উপাদানের চাবিকাঠি নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তার উৎসাহিত করে। শাকসবজির পর্যাপ্ত পাতা উৎপাদনে সহায়তা করে। আমিষ ও নিউক্লিক এসিড উৎপাদনে অংশগ্রহণ করে। ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে গাছকে সবুজ বর্ণ দান করে। শর্করা উৎপাদন বাড়ায়। ফলের আকার বড় করতে সাহায্য করে। অন্যান্য সব আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণ হার বাড়ায়। কুশি উৎপাদনে সহায়তা করে।
মাটিতে নাইট্রোজেন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হলে ক্লোরোফিল সংশ্লেষণের হার কমে যায়। ফলে গাছ স্বাভাবিক সবুজ বর্ণ হারিয়ে ফেলে। পাতার আকার ছোট হয় এবং শাখা প্রশাখার বৃদ্ধি হ্রাস পায়, ফলে গাছ খর্বাকার হয়। গাছের পাতা হালকা সবুজ থেকে হলুদাভ বর্ণ ধারণ করে এবং অকালেই ঝরে পড়ে। পাতার অগ্রভাগ হতে বিবর্ণতা শুরু হয়। বৃন্ত এবং শাখা প্রশাখা সরু হয়। গোলাপি অথবা হালকা লাল রঙের অস্বাভাবিক বৃন্ত হয়। পুরাতন পাতার মধ্যশিরার শীর্ষভাগ হলুদাভ-বাদামি বর্ণ ধারণ করে। ফুল ও ফলের আকার ছোট হয়। ফলন কমে যায়।
নাইট্রোজেনের প্রয়োগ মাত্রা বেশি হলে গাছের কাঠামো ও গঠন দুর্বল হয়। ফুল ও ফল উৎপাদনে বিলম্বিত হয়। পোকামাকড় ও রোগ আক্রমণ বেড়ে যায়। পাতার অংশ ভারি হলে গাছ হেলে যায়। অতিরিক্ত নাইট্রোজেনে অনেক ফল পানসে হয়।
টিএসপি ও ডিএপি সার
টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ও ডিএপি(ডাইএ্যামোনিয়াম ফসফেট)-এ দুটোই ফসফেট সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার। বাংলাদেশে এ সার দুটোর ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দানাদার দ্রব্য হিসেবে এ সার দুটো বাজারজাত করা হয়। এ সার দুটোতেই শতকরা ২০ ভাগ ফসফরাস থাকে। টিএসপিতে শতকরা ১৩ ভাগ ক্যালসিয়াম এবং ১.৩ ভাগ গন্ধকও বিদ্যমান থাকে। ডিএপিতে ফসফেট ছাড়াও ১৮% নাইট্রোজেন বিদ্যমান থাকে যার কারণে ইহা চুনযুক্ত পলি মাটির জন্য একটি উত্তম সার।
রক ফসফেট নামক খনিজ পদার্থের সঙ্গে ফসফরিক এসিডের বিক্রিয়ার মাধ্যেমে টিএসপি সার প্রস্তুত করা হয়। টিএসপি সারের রঙ ধূসর থেকে গাঢ় ধূসর হয়ে থাকে। এ সারে অম্লস্বাদযুক্ত ঝাঁঝালো গন্ধ থাকে। এ সার পানিতে সহজেই গলে যায়।
ডিএপি সার এ্যামোনিয়া এবং ফসফরিক এসিডের মধ্যে বিক্রিয়া ঘটিয়ে উৎপাদন করা হয় । এ সার সহজেই পানিতে দ্রবণীয়। এ সারের রঙ সাধারণত সাদাটে থেকে গাঢ় ধূসর হয়ে থাকে। ডিএপিতেও অম্লস্বাদযুক্ত ঝাঁঝালো গন্ধ থাকে।
ফসফরাস কোষ বিভাজনে অংশগ্রহণ করে। শর্করা উৎপাদন ও আত্তীকরণে সাহায্য করে। শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তার উৎসাহিত করে। গাছের কাঠামো শক্ত করে এবং নেতিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করে। রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধ করে। ফুল, ফল ও বীজে গুণগতমান বাড়ায়।
মাটিতে ফসফরাসের ঘাটতি হলে কাণ্ড এবং মূলের বৃদ্ধি হ্রাস পায়। গাছের বৃদ্ধি কু-লিকৃত বা পাকানো হয়। পুরাতন পাতা অকালে ঝরে যায়। পার্শ্বীয় কাণ্ড এবং কুড়ির বৃদ্ধি কমে যায়। ফুলের উৎপাদন কমে যায়। পাতার গোড়া রক্তবর্ণ অথবা ব্রোনজ রঙ ধারণ করে। পাতার পৃষ্ঠভাগ নীলাভ সবুজ বর্ণ ধারণ করে। পাতার কিনারে বাদামি বিবর্ণতা দেখা যায় এবং শুকিয়ে যায়। রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমে যায়
ফসফরাসের পরিমাণ অধিক হলে ফলন কমে যায়। গাছে অকাল পরিপক্বতা আসে। গাছের বৃদ্ধি কমে যায়।
এমওপি সার
এমওপি বা মিউরেট অব পটাশ সর্বাধিক ব্যবহৃত একটি পটাশ সার। এসারে শতকরা ৫০ ভাগ পটাশ থাকে। এসার সহজে পানিতে গলে যায় বা দ্রবীভূত হয়। এ সারের রঙ সাধারণত সাদা থেকে হালকা বা গাঢ় লালচে রঙের এবং এর আকৃতি ছোট থেকে মাঝারি আকারের স্ফটিকাকৃতির হয়ে থাকে।
পটাশিয়াম উদ্ভিদ কোষের ভেদ্যতা রক্ষা করে। উদ্ভিদে শ্বেতসার দ্রব্য স্থানান্তরে বা পরিবহনে সহায়তা করে। লৌহ ও ম্যাংগানিজের কার্যকারিতা বাড়ায়। আমিষ উৎপাদনে সাহায্য করে। উদ্ভিদে পানি পরিশোষণ, আত্তীকরণ ও চলাচল তথা সার্বিক নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়ায়। গাছের কাঠামো শক্ত করে। নাইট্রোজেন ও ফসফরাস পরিশোষণে সমতা বিধান করে।
পটাশের ঘাটতি হলে পুরাতন পাতার কিনরা হতে বিবর্ণতা শুরু হয়। গাঢ় নীল বর্ণের পাতা দেখা যায়। পাতার আন্তঃশিরায় বাদামি বর্ণের টিস্যু হতে দেখা যায়। পাতার উপরিভাগে কুঞ্চিত হতে বা ভাঁজ পড়তে দেখা যায়। গাছ বিকৃত আকার ধারণ করে। ছোট আন্তঃপর্বসহ গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং প্রধান কা-টি মাটির দিকে নুয়ে পড়ে। অনুপযোগী আবহাওয়ায় গাছ খুব সংবেদনশীল হয়। পোকামাকড় ও রোগবালাই এর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়।
পটাশের সরবরাহ বেশি হলে ক্যালসিয়াম ও বোরনের শোষণ হার কমে যায়। বোরনের অভাবজনিত লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠে। পানি-নিঃসরণের হার কমে যায়। গাছের বৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়।
জিপসাম সার
দেশের একমাত্র টিএসপি সারের কারখানায় প্রায় ৬৫ হাজার মে. টন জিপসাম উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। এ সারে শতকরা ১৭ ভাাগ গন্ধক এবং ২৩ ভাগ ক্যালসিয়াম বিদ্যমান থাকে। এ সারের নমুনায় আর্দ্রতা বেশি থাকায় তা বেশি দিন বস্তায় সংরক্ষণ করা যায় না। প্রকৃত জিপসাম সার আলোতে কিছুটা চিক চিক করে এবং এ সারের হস্তানুভূতি কোমল প্রকৃতির। এ সার সাদাটে বা ধূসর বর্ণের পাউডারের মতো।
গন্ধক আমিষ উৎপাদনে অংশগ্রহণ করে। ক্লোরোফিল গঠনে সাহায্য করে। গাছের বর্ণ সবুজ রাখে। বীজ উৎপাদনে সাহায্য করে। ফসলের গুণগতমান বাড়ায়।
মাটিতে গন্ধকের অভাব হলে গাছের সবুজ বর্ণ বিনষ্ট হয়, কাণ্ড সবুজ ও চিকণ হয়। পাতা ফ্যাকাশে সবুজ বা হলুদ আকার ধারণ করে। গাছে শর্করা এবং নাইট্রোজেন বৃদ্ধি পায়। লবন মাটিতে লবানাক্ত কমাতে সাহায্য করে ।
জিপসাম প্রয়োগের মাত্রা বেশি হলে শিকড়ের বৃদ্ধি কমে যায়। শারীরিক বৃদ্ধি হ্রাস পায়।
জিংক সালফেট সার
বাংলাদেশের জিংক বা দস্তা ঘাটতি মাটিতে দুই ধরনের দন্তা সার ব্যবহার হয়ে আসছে। একটি জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট এবং অপরটি জিংক সালফেট হেপটাহাইড্রেট। সামান্য পরিমাণ অন্য একটি দস্তা সার চিলেটেড জিংক প্রে করে সরাসরি গাছে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। জিংক সালফেট মনোহাইড্রেটে শতকরা ৩৬.০ ভাগ দস্তা ও ১৭.৬ ভাগ গন্ধক থাকে। অপরদিকে জিংক সালফেট হেপটাহাইড্রেটে দস্তা ও গন্ধকের পরিমাণ যথাক্রমে শতকরা ২১.০ এবং ১০.৫ ভাগ বিদ্যমান থাকে। চিলেটেড জিংকে শতকরা ১০ ভাগ দস্তা বিদ্যমান থাকে।
জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট সারটি আসলে ক্ষুদ্রাকার স্ফটিক আকারে উৎপাদিত হয়। ফসলে প্রয়োগের সুবিধার্থে ইহাকে দানাদার করে বাজারজাত করা হয়ে থাকে। এ সার রঙবিহীন থেকে সাদাটে এবং অনেকটা সাগু দানার মতো দেখা যায়। পানিতে সহজে গলে যায়।
জিঙ্ক সালফেট (হেপটাহাইড্রেট) সারটি দেখতে স্ফটিকাকৃতি চিনির দানার মতো এ
Comments
Post a Comment